বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
Wellcome to our website...

বাংলাদেশের পাসপোর্টে সাহসী নারীর ১১৫ দেশ ভ্রমণের গল্প

টুডে প্রতিবেদক।।
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

বিশ্বের ভ্রমন পিপাসুদের প্রাণের দেশ থাইল্যান্ড দিয়ে শুরু এইমুহূর্তে (৪ ফেব্রুয়ারী) ওমানের ভিসার জন্য অপেক্ষামান। বলছিলাম কাজী আসমা আজমেরীর কথা। আসমা ইতোমধ্যে ১১৫ টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়েই ১১৫ টি দেশে যেতে পেরেছেন।

 ভ্রমণ কাহিনী সম্পর্কে জানতে গতকাল দুবাইতে দেখা করি তার সাথে। এসময় তার কাছে বিশ্ব ভ্রমণের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাই।

প্রথমেই আসমা তার ভ্রমণের নেশাকে উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ” ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড ভ্রমণ করে ভারত, নেপালে যাওয়ার পরপরই এই নেশাটা আমার মনের মধ্যে গেঁথে যায়। এখন আর চাইলেও তা থামানো সম্ভব না। অর্থাৎ আমার মানসিকতা এখন বিশ্ব দেখার স্বপ্নে বিভোর। এছাড়া আমি ছোটবেলায় মায়ের কাছে ইবনে বতুতা, মার্কো পোলোর, শেখ সাদী, ওমর খৈয়ামের গল্প শুনে বিশ্ব ভ্রমণের ইচ্ছে মনের মধ্যে লালন করি। আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। বলা যায় পারিবারিক সূত্রেও কিছুটা পেয়েছি।”

আমরা তার কাছে জানতে চেয়ে ছিলাম বিশ্বভ্রমণকালীন সময়ের গল্পের কথা। তিনি জানান, বিশ্বের সকল দেশের আলাদা সংস্কৃতিটাই তাকে বেশি শিখতে সহায়তা করেছে। সাংস্কৃতিক পার্থক্যটাই মূলত দেশের পার্থক্য বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া তার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময়কার সমস্যার কথাও বলেন।

বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণ কঠিনতম একটা কাজ বলেও জানান। বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভিসা পেতে সমস্যা হয়। যার ফলে তাকে দু একবার পরদেশের কারাগারে যেতে হয়েছে। এতো কিছুর পরও ভ্রমণ পিপাসু মন থেমে যায়নি।

বর্তমানে সংগ্রামী এই নারী মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। আরব আমিরাত থেকে ওমানের ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। আমিরাতের বিভিন্ন শহর ঘুরে মুগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি এখানকার পরিকল্পিত সড়ক বা যোগাযোগ ব্যবস্থা তাকে বেশ আকৃষ্ট করেছে বলে জানান।

২০১২ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা রেডক্রসে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা জানান। নিউজিল্যান্ডের মানুষের সহযোগিতার ব্যাপারেও বেশ কিছু তথ্য দেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা করেছে সেখানকার মানুষ।

আমরা জানতে চেয়েছিলাম ভ্রমণ করতে যে অর্থের প্রয়োজন হয় সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে। তিনি আমাদেরকে জানান, এক বছর যেকোনো দেশে বিশেষকরে নিউজিল্যান্ডে চাকুরী করে সেই টাকা দিয়েই মূলত পরবর্তী দেশে ভ্রমণ করেন।

কাজী আসমা আজমেরী আমাদেরকে জানান, বিশ্বের অসম্পূর্ণ দেশ সমূহ ঘুরে দেখার ইচ্ছে পূরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। সকল প্রকারের বাঁধা বিপত্তিকে জয় করে বিশ্ব ভ্রমণ সমাপ্ত করবেন।

খুলনার মেয়ে কাজী আসমা আজমেরীর বাবা কাজী গোলাম কিবরিয়া ও মা কাজী সাহিদা আহমেদ। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। ইকবালনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও খুলনা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেন।

শেয়ার করুন::
error1
Tweet 20
fb-share-icon20


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::