শিরোনাম::
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ঈদের পর পরিবারের দাবী প্রতিপক্ষের সু-পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার নুরুল আবছার চৌধুরী টুডে করোনা পরিস্থিতি; করোনায় মৃত-৩৯জন এবং নতুন সনাক্ত-২৭৩৩জন ডিগ্রি কলেজেও সভাপতি পদে থাকতে পারবেন না সংসদ সদস্যরা সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত উখিয়া শিক্ষা অফিসে লাগামহীন দুর্নীতি থামাবে কে? উখিয়া নিউজ টুডে।। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন দরিদ্র জোহরা! রামুর জোয়ারিয়ানালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম‍্যমান চিকিৎসা-সেবা উদ্ভোধন করলেন ইউএনও প্রণয় চাকমা সমুদ্র সৈকত হতে ২.৫ টন বর্জ্য পরিষ্কার করলো “টিম কক্সবাজার” এর স্বেচ্ছাসেবীরা
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১০:০৮ অপরাহ্ন

উখিয়াসহ ট্রাফিক আইন মানছেনা সর্বত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক/উখিয়া নিউজ টুডে।।
আপডেট : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

উখিয়ার মরিচ্যা,কোটবাজার,উখিয়া সদর, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী,পালংখালী বাজারের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। ফলে অনেক সময়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

এছাড়া লোকাল পরিবহনগুলো যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় মেতে থাকে। ফলে বিভিন্ন সড়কে গতি নির্ধারন করা থাকলেও তা অনুসরন করছেন না চালকরা। আবার যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামানোর কাজ করছেন চালক-হেলপার। ফলে বাড়ছে যানজট আর ভোগান্তি। এছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্য করে উচ্চ স্বরে বাজাচ্ছেন গাড়ির হর্ণ। স্থান ভেদে শব্দ সীমা নির্ধারন করা থাকলেও তা তোয়াক্কা করছেন না চালকরা। ফলে বাড়ছে শব্দ দূষণ আর অতিষ্ঠ হচ্ছে উপজেলাবাসী।

এছাড়া উপজেলায় আশংকাজনক হারে বেড়েই গেছে টমটম,অটোরিকশা সহ হরেক রকমের ছোট ছোট গাড়ী। এসব যানবাহন প্রধান সড়ক ছাড়াও বাজারের অলিগলি এবং ইউনিয়নের প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের ছোট বড় সড়কে ভাড়া মারতে থাকে বেপরোয়া গতিতে। কিন্তু অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় ব্যাটারী চালিক গাড়ীর চালকরা গাড়ী চালানোর নিয়ম কানুন বলতে কিছুই চিনে না। তারা যানবাহন চালানোর কাজে দক্ষতা সম্পন্ন না হওয়ার পরও পাড়া মহল্লার সড়ক পেরিয়ে এমনকি সড়কে টমটম এবং অটোরিকশা চালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন চিত্র প্রতিনিয়ত সড়কের বিভিন্ম পয়েন্টে চোখে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, ঢাকা বা চট্রগ্রামমুখী বড় বড় দুরপাল্লার বাসের সাথে পাল্লা দিয়ে জোরেশোরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালাচ্ছে অল্পবয়সী ও অদক্ষ চালকরা। তারা সড়কে কিভাবে যানবাহন চালাতে হয়, সেটিও জানেনা।

এছাড়া বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো নিত্যদিনের চিত্র। যাত্রী সংগ্রহে দুর্বার গতিতে ছুটে চলে লোকাল গাড়ি গুলো। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গাড়ি গুলোর এমন বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এমনকি চোখের সামনে গাড়িগুলোর এমন প্রতিযোগিতা চললেও অনেক ক্ষেত্রেই নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশদের। এছাড়া রয়েছে ফিটনেস বিহীন লক্কর ঝক্কর গাড়ির ছড়াছড়ি। নির্ধারিত রুট পারমিটের রাস্তা ব্যবহার করার কথা থাকলেও মানছেনা চালক। কোন কোন সড়কে গতিসীমা ১৫-২০ থাকলেও গাড়ি চলছে ৩০-৪০ কি.মি. গতিতে। হরহামেসাই ওভারটেক করার চিন্তায় মগ্ন থাকতে দেখা যায় চালকদের। এছাড়া লক্কর-ঝক্কর লোকাল বাস, দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ মাঝাড়ি যানবাহনগুলোর চালকরাও বাধেন না সিটবেল্ট। সঠিক জায়গায় গাড়ি পার্ক করার কথা থাকলেও ব্যস্ত সড়কের পাশেই গাড়ি পার্কের ঘটনা নিত্যদিনের।

এদিকে যানজটের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতগুলোতেও আধিপত্য মটরসাইকেল চালকদের। জনসাধারণ চলাচল করলেও অনেক মটরসাইকেল চালকই দ্রুতগতিতে উচ্চস্বরে হর্ণ বাজিয়ে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করেন। পাশাপাশি রিকশাচালকরাও সুযোগ পেলে ফুটপাত ব্যবহার করেন।

এছাড়া পথচারীদের অনেকেই দৌড়ে রাস্তা পারাপারের চিত্র অহরহ দেখা যায়। এমনকি শিশু সন্তান কোলে নিয়ে অথবা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে অনেকে রাস্তা পার হচ্ছেন। এছাড়া সড়কগুলোতে গতিসীমা নিয়েও নেই কোন নির্দেশিকা।

এদিকে ট্রাফিক আইন ঘেটে জানা যায়, বাংলাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে একটি আইনি কাঠামোতে আনার জন্য ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘মোটরযান অধ্যাদেশ’ প্রণয়ন করে। আইনটিতে ১৭৭টি ধারা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে, ১৩৭ ধারা অনুসারে যে কোনো অপরাধের শাস্তি প্রদানে ২০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। ১৩৯ ধারা অনুসারে নিষিদ্ধ হর্ন কিংবা শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র লাগালে ১০০ টাকা, ১৪০ ধারা অনুসারে আদেশ অমান্য, বাধা সৃষ্টি ও তথ্য প্রদানে অস্বীকার করলে ১ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা এবং বিপরীত দিকে গাড়ি চালালে ২০০ টাকা, ১৪২ ধারা অনুসারে নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালালে ১ মাসের কারাদণ্ড বা ৩০০ টাকা, ১৪৩ ধারা অনুসারে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানাসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স সাসপেন্ড, ১৪৬ ধারা অনুসারে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত অপরাধে ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, ১৪৯ ধারায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় গাড়ি ব্যবহার করলে ১ মাসের কারাদণ্ড বা ২৫০ টাকা, ১৫০ ধারা অনুসারে মারাত্বক ক্ষতিকর ধোঁয়া বের হলে ২০০ টাকা, ১৫১ ধারা অনুসারে আইনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন অবস্থায় গাড়ি বিক্রি বা গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করলে ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫০০০ টাকা, ১৫২ ধারা অনুসারে রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা পারমিট ছাড়া মোটরগাড়ি ব্যবহার করলে ৩ মাসের মাসের কারাদণ্ড বা ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, ১৫৭ ধারা অনুসারে প্রকাশ্য সড়কে অথবা প্রকাশ্য স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে, আঠারো বছরের নিচে কোনো ব্যক্তি সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহার্য স্থানে মোটরযান চালাতে পারবেন না, এক ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স অন্য ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না, সর্বসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো মোটরযান চালানো যাবে না, মোটরসাইকেলে দু’জনের বেশি আরোহী হওয়া যাবে না, মোটরসাইকেল চালক এবং তার সঙ্গীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে, গাড়ির বাম্পার কিংবা ছাদে আরোহণ করা যাবে না, কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।

ট্রাফিক বিষয়ক এতসব আইন আর শাস্তি নির্ধারন করা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। একদিকে মানছেন না চালকরা, অন্যদিকে এসব আইন বাস্তবায়নে তৎপরতার অভাব দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশদের।

এব্যাপারে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, আমরা আইন যথাযথ বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। এছাড়া চোখের সামনে অনিয়ম দেখলেই গাড়ি থামিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এব্যাপারে সচেতন মহল ও এলাকাবাসী শ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::