শিরোনাম::
উখিয়া চলন্ত বাসয়ে রহস্যময় আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত মোদিকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ বাতিলের দাবি আহমদ শফীর টেকনাফে স্বেচ্ছায় সড়ক সংস্কার করলেন বিজিবি চট্টগ্রামে অশ্লীল ছবি ধারণ করে মুক্তিপণ আদায় , ২ প্রতারক গ্রেফতার উখিয়ার পালংখালীতে কেয়ার বাংলাদেশের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত বাঁশখালীতে ইয়াবাসহ নাইক্ষ্যংছড়ির আনোয়ার আটক মেম্বার জেলে, উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত পালংখালীর ৭নং ওয়ার্ডের মানুষ ঘুমধুমে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কঠোর নজরধারী থাকলেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ পাসপোর্ট চট্টগ্রাম হালি শহরের ঠিকানায়!
শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
Wellcome to our website...

ভালোবাসা হোক আল্লাহর জন্য

টুডে প্রতিবেদক।।
আপডেট : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

ভালোবাসা মানব স্বভাবের একটি আশ্চর্য গুণ। এক অজানা টানে হৃদয়ের ঝোঁক থেকেই সূচনা হয় ভালোবাসার। তারপর গড়ায় প্রীতির বন্ধনে। কিন্তু এ ভালোবাসা যদি অশ্লীল হয়, অশ্লীলতার পথে গড়ায় ভালোবাসার প্রবাহ, তখন জীবন হয় শূলের চেয়ে বিষাক্ত, মাটির চেয়েও অর্থহীন। অথচ ভালোবাসার পথে চলেই, ভালোবাসাকে সততার পথে পরিচালিত করেই আমরা হতে পারি সৌভাগ্যবান, রবের প্রিয় বান্দা এবং কেয়ামতের দিন নবীগণের মুগ্ধতার পাত্র।

হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছে যারা নবী নয় এবং শহীদও নয়। অথচ কেয়ামতের দিন নবীগণ এবং শহীদগণ তাদের দেখে আশ্চর্য হবেন এবং মুগ্ধতার দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকাবেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদেরকে বলুন, তারা কারা হবে? নবীজি (সা.) বললেন, তারা এমন কিছু ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালোবেসেছে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে। আত্মীয়তার সূত্র ধরে নয় কিংবা টাকা-পয়সার সম্পর্কের কারণেও নয়। আল্লাহর কসম! তাদের চেহারা হবে পবিত্র নূরে উদ্ভাসিত, আর তারা থাকবে প্রভুর নূরের আচ্ছাদনে। মহাপ্রলয়ের দিন তারা শঙ্কিত হবে না, যখন সবাই থাকবে ভীতসন্ত্রস্ত। আর তারা হবে না দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।’ (আবু দাউদ : ২৪২৭)

আমরা যদি আখেরাতে প্রিয় নবী (সা.)-এর সঙ্গে থাকতে চাই, তাহলে দুনিয়াতেও তাকে ভালোবাসতে হবে, ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধতে হবে তার সিরাত, আখলাক ও পুরো জীবনাদর্শ। নবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার সঙ্গে থাকবে, যাকে সে দুনিয়াতে ভালোবাসত।’ (বুখারি : ২৫২)

কেয়ামতের দিন সূর্য মাথার এক হাত ওপরে নেমে আসলে বিক্ষিপ্ত প্রাণগুলো যখন ছুটোছুটি করবে চারদিকে, তখন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা দিয়ে বলবেন, ‘কোথায় আমার বান্দারা, যারা পরস্পরকে ভালোবেসেছিল শুধু আমাকে পাওয়ার লক্ষ্যে! আজ আমি তাদেরকে ছায়া দান করব আমার আরশের ছায়াতলে; আজ আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া নেই।’ (মুসলিম : ২৫৬৬)

আমরা অনেকে দুনিয়ার তারকা ওমুক খেলোয়াড়, তমুক নায়ক বা অমুক নেতাকে ভালোবাসি। তাদের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে দিতে চাই। একজন মানুষ হিসেবে কাউকে ভালোবাসতে সমস্যা নাই। কিন্তু তাকে ভালোবাসলে পরকালে আপনার কী লাভ? দুনিয়াতেই বা কি অর্জন করতে পারলেন? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্টো তার জন্য আপনার অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! অথচ বিনিময়ে কিছুই পাচ্ছেন না।

দুনিয়ার জীবনের সময়গুলোকে খুব সস্তা ভাবার সুযোগ নেই। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞাসা করবেন, ‘কোন কাজে তুমি জীবনের সময়গুলো ব্যয় করেছ হে বান্দা?’ (তিরমিজি : ২৪১৭)। সেই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আজ থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করুন, যেন বলতে পারেন, হে আল্লাহ! তোমার সন্তুষ্টির জন্য আমি তোমার অমুক বান্দাকে ভালোবেসেছি, আমি ভালোবেসেছি তোমার নবীকে। সুতরাং আজ আমি তোমার ছায়া পেতে চাই এবং পেতে চাই তোমার নবীর সঙ্গ!

শুধু রবের সন্তুষ্টির পেতে যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে নবী (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে রয়েছে নীলকান্তমণি আর পান্নার নির্মিত অট্টালিকাসমূহ। সেগুলোতে রয়েছে মুক্তা খচিত কামরা। আর সেসব কামরায় থাকবে এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবেসেছে।’(মুসনাদে বাজ্জার : ২৯২)

আল্লাহর জন্য যাকে ভালোবাসবেন তার কল্যাণ কামনা করবেন; তার উপস্থিতিতে কিংবা অনুপস্থিতিতে। তার ভালো গুণগুলো নিজের মধ্যেও প্রয়োগের চেষ্টা করবেন। আর সে অন্যায় কিছু করলে তাকে বোঝাবেন। আল্লাহর কাছে তার সংশোধনের জন্য দোয়া করবেন। নামাজে যাওয়ার সময় তাকে ডেকে নিয়ে যাবেন এবং তাকে সৎ কাজের আদেশ করবেন। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের পরস্পরের ভালোবাসা-ভ্রাতৃত্ববোধ শুধু তার সন্তুষ্টির লক্ষেই করার তাওফিক দান করুন।

 

শেয়ার করুন::
error0


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::