বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
Wellcome to our website...

ঘুমধুমে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কঠোর নজরধারী থাকলেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার

নুর মোহাম্মদ সিকদার, উখিয়া
আপডেট : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

উখিয়ার পার্শবর্তী নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের চিহিৃত ইয়াবা ব‌্যবসায়ীরা ফের সক্রিয়। অভিনব কায়দায় পাচার করছে ইয়াবা।সম্প্রতি তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির সাথে গুলা গুলিতে দুই রোহিঙ্গা মাদক কারবারি নিহত হলেও বানের পানির মত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ডুকছে ইয়াবা। তুমব্রু সীমান্ত এলাকার চিহিৃত কয়েকজন ইয়াবা ব‌্যবসায়ী ইয়াবাসহ শহরের বিভিন্ন জেলায় হাতে নাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে থাকলেও থেমে নেই তাদের সিন্ডিকেটের বাকি সদস‌্যরা। এবং অনেকেই জেল থেকে বের হয়ে ফের সক্রিয় ইয়াবা ব‌্যবসায়। বিশেষ করে মায়ানমার থেকে ৭৮ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে যারা বাংলাদেশী নাগরিকত্ব পেয়েছেন ।তারা ঘুমধুমে শক্তিসালী ইয়াবা সিন্ডিকেট গঠন করে তাদের মায়ানমারে বসবাসরত আত্বিয় স্বজনদের মাধ‌্যমে সীমান্ত দিয়ে প্রচুর ইয়াবা আমদানি করে বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার বিস্তর অভিযোগ উঠছে।

বিশেষ করে ঘুমধুমের তুমব্রুতে কয়েকজন চিহিৃত ইয়াবা কারবারিরা মহিলা, কিশোর ও তরুনদের মাধ‌্যমে ইয়াবা পাচারের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সহজে ইয়াবা পাচারে তুমব্রু কোলাল পাড়া,মাজর পাড়া ও বাইশপাড়ী থেকে অটোরিক্সা সিএনজি ব‌্যবহার করে প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে পাচার করছে মরণব‌্যাধি ইয়াবা।

ঘুমধুমের স্থানীয় সচেতন মহলরা বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দেশ ও দেশের যুবসমাজ ধ্বংসকারী, এদেশে তাদের স্থান হতে পারে না। তাই সচেতন মহল মনে করছেন সে সব চিহিৃত ইয়াবা কারবারিদের গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় স্থানীয়রা।

শুধু তাই নয়, ঘুমধুম, জলপাইতলী, তুমব্রু, কচুবনিয়া, উত্তর ঘুমধুম, বাইশফাড়ীঁ এলাকার প্রশাসনের তালিখা ভুক্ত ইয়াবা গডফাদারদের নেতৃত্বে পুরো ঘুমধুম ইউনিয়নে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস‌্যরা মোটা দাগের ইয়াবা লেনদেন ও পাচার কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুমধুমের গুটি কয়েক চোরা কারবারিরা অভিনব কায়দায় কোটি টাকার ইয়াবা সেন্ডিকেটের মাধ‌্যমে রোহিঙ্গা ক‌্যাম্প ও শহরে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ঘুমধুমের ইয়াবা ব‌্যবসায়ীরা সীমান্তে এত বেপরোয়া হয়ে উঠছে যে ।প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে দিব‌্যি পাচার করছে ইয়াবা। ইয়াবা ব‌্যবসায়ীদের মধ‌্যে কেও কেও সরকারি দলের নাম ব‌্যবহার করে প্রশাসনের নজর ফাকি দিয়ে কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে এই মরণ নেশা ইয়াবা ব‌্যবসা।

সূত্রমতে, রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় লালিত চিহিৃত ইয়াবা কারবারিরা পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে নীজ গ্রাম থেকে বাহিরে গিয়ে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও শহরে অবস্থান করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওইখান থেকে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা ইয়াবা ব্যবসা। এসমস্ত ইয়াবা সেন্ডিকেট চিহিৃত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা নাহলে ঘুমধুমের ভবিৎস‌্যত অন্ধকার হবে বলে অভিমত স্থানীয়দের।

সচেতন অভিভাবকদের অভিমত, বর্তমান ভয়াবহ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে যেসব কিশোর, যুবক জড়িয়ে পড়েছে, তাদের একটি অংশ মাদকাসক্ত ও মাদক পাচারের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মতে, কারা ইয়াবা পাচার করে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছে, নামে বেনা ক্রয় করছে বিপুল সম্পদ ও বাড়ি গাড়ি। কয়েক বছর পুর্বে যারা ছিল রিক্সার ড্রাইবার, যারা ছিল দিন মুজুর তারা আজ ইয়াবা ব‌্যবসায় জড়িয়ে বনে গেছে নব‌্য কোটিপতি। তাদের সম্পর্কে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সমাজের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বা নজরদারির দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, আগামী প্রজন্ম খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে বলে অভিমত সুশীল সমাজের।

এ প্রসঙ্গে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম‌্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন,আমাদের বঙ্গবন্ধু কন‌্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন মাদক ব‌্যবসায়ী সে যত বড় নেতা ও ক্ষমতাবান ব‌্যক্তি হোউক না কেন কোন ছাড় নেই।সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন।আমিও প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাবো মাদক ইয়াবা ব‌্যবসায়ীদের ধরে দেশের সর্বোচ্ছ মাদক আইনে দ্রষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব‌্যবস্থা যেন করা হয়।মাদক ইয়াবায় আশক্ত হয়ে ঘুমধুমের যুব সমাজ যেন নষ্ট না হয় তাই ঘুমধুমকে মাদক মুক্ত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।

ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ(ওসি তদন্ত) জনাব দেলোয়ার হোসাইন এ প্রতিবেদককে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের যোদ্ধ ঘোষনা,এ যুদ্ধ অব‌্যাহত থাকবে ।

উল্লেখ‌্য,১৭ই নভেম্বর তুমব্রুতে বিজিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা মাদককারবারি নিহত,২৮ জানুয়ারী তুমব্রুতে বিজিবির হাতে কাস্টম গামী অটোরিক্সা তল্লাসী চালিয়ে ১০ হাজার ইয়াবা ও সন্তান সহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে বিজিবি। ১২ই ফেব্রুয়ারী ঘুমধুমের ৩ইয়াবা পাচারকারী ঢাকায় আটক।১৩ই ফেব্রুয়ারী সকালে আলুর বস্তা ,বেগুনের বস্তা ও সিমের বস্তার ভিতর বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক ইয়াবা পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। তারপরও থেমে নেই ইয়াবার চালান ।মায়ানমার থেকে বানের পানির মত ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ডুকছে প্রচুর পরিমাণে ইয়াবা।

শেয়ার করুন::
error1
Tweet 20
fb-share-icon20


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::