বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৭:০২ অপরাহ্ন
নোটিশ
Wellcome to our website...

আসুন, আমরা সতর্ক হই, সরকারকে সহযোগিতা করি

মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন/উখিয়া নিউজ টুডে।।
আপডেট : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে সুনামি হওয়ার ক্ষণিক অাগেও প্রকৃতি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ-ই শান্ত সাগরের অশান্ত রুপ! কঠিন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কেড়ে নিল অসংখ্য মানুষের প্রাণ! অথচ, তার অাগে কেউ বুঝতেই পারেনি, এমন কিছু ঘটবে! প্রকৃতি এমন-ই। বিমূর্ত রুপ নিতে বেশি সময় নেয়না।

২৩ জানুয়ারী ১৫৫৬ সালে চীনে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তেও কেউ অাঁচ করতে পারেনি প্রকৃতি এমন নিষ্ঠুর অাঘাত হানবে।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় হিসেবে খ্যাত ভোলা সাইক্লোনের ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা যাবার পূর্বেও কেউ ভাবতে পারেনি প্রকৃতি অামাদের এমন লন্ডভন্ড করে দিতে পারে!

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের মধ্যরাতে ভয়ার্ত জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়াসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে অসংখ্য মানুষ জীবন্ত ডুবে মরার অাগে কেউ ধারনাই করতে পারেনি, তাদের এমন বিভীষিকাময় একটি রাতের মুখোমুখি হতে হবে!

বিশ শতকে গুটি বসন্তের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বে ৩০ কোটি মানুষ মারা যাওয়ার অাগে কেউ বুঝতে পারেনি অদৃশ্য এই ক্ষুদ্র জীবানু কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে!

১৯১৮-১৯ সালে স্প্যানিশ ফ্লু’র অাক্রমণে যখন ৫-১০ কোটি লোক মারা গিয়েছিল তখনও কি মানুষের ধারনা ছিল ভাইরাস এতটা মারাত্মক হতে পারে?

একইভাবে ইবোলা, রেবিজ, এইচ৫ এন১ এবং মারবুৃৃর্গের মত ভাইরাসে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবার পূর্বে কেউ অান্দাজ করতে পারেনি ভাইরাস মানবসভ্যতার জন্য কতটা ভয়ঙ্কর!

বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নেওয়া অাজকের উন্নত রাষ্ট্র চীন, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স কি কখনো ভেবেছিল তাদের এমন অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে? কি নেই তাদের? অথচ দেখুন, ইতালির সরকার প্রধান অাজ বলছে, “অামাদের সব প্রচেষ্ঠা শেষ, অামরা মানসিকভাবে মরে গেছি। এখন আসমানের সাহায্য ছাড়া কিছুই করার নেই!” যুক্তরাষ্ট্র অসহায়! ফ্রান্স, স্পেনও অসহায়! অায়ারল্যান্ড সারিসারি অগ্রীম গণকবর খুঁড়ে রাখছে! বুঝলেন কিছু?

শুনেছি, এই করোনাভাইরাস মহামারি রুপ ধারন করার পূর্বে এসব রাষ্ট্র ততটা সতর্কতা অবলম্বন করেনি বা করলেও জনগন সেসব যথাযথভাবে পালন করেনি কিংবা গুরুত্ব দেয়নি। ফলে অাজকের এই অবস্থা বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা।

এখন প্রশ্ন হল, অামরাও কি একই পথে হাটছি? অামাদের সরকার শুরু থেকে যথেষ্ট অান্তরিকতা এবং সচেতনতার সহিত এই ভাইরাস মোকাবেলার চেষ্টা করছে। সরকার সাধারন ছুটি ঘোষনাসহ বেশিকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবকিছুকে লকডাউনের অাওতায় এনে মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। খাদ্য সংকটে পড়লে ঘরেঘরে তা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে এবং দিচ্ছেনও। তথাপি অামরা কি মানছি সেই নির্দেশনা? কোন কারন ছাড়াই হরহামেশা ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছি। অামাদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়েছে! কি অাজবরে ভাই! সেনাবাহিনীর কাজ কি অামাদেরকে ঘরে ঢুকানো? তবুও করছে কেবল অামাদের জন্যই। কিন্তু অামরা বাঙ্গালীতো, তাই ধাক্বা না খেলে পাক্কা হয়না কখনো।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিয়েছেন, লকডাউনে কাউকে বাইরে দেখলে গুলি করতে। ভারতের পুলিশ কাউকে বাড়ির বাইরে পেলে পিটিয়ে পাছা লাল করে দিচ্ছে। তার বিপরীতে বাংলাদেশের পুলিশ, অার্মি কেবল উত্তম মধ্যম কিছু দিচ্ছেন। তাতেও কিছু মানব দরদী মানবাধিকার খর্ব হচ্ছে বলে চিল্লাপাল্লা করছে! কথায় বলেনা, বাঁদরকে প্রশ্রয় দিলে মাথায় উঠে। অামাদেরও হয়েছে তা।

কাল সোস্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিও দেখে নিরবে চোখের জল ফেলেছি। ৯/১০ বছরের একটি শিশু করোনায় সংক্রমিত হওয়ায় হাসপাতাল থেকে এ্যাম্বুলেন্সসহ ডাক্তার এসেছে তাকে নিয়ে যেতে। শিশুটি বাড়ি থেকে বের হয়ে এ্যাম্বুলেন্সে উঠতে যাওয়ার দৃশ্যটি দেখে চোখের পানি ফেলেনি এমন লোক পাওয়া যাবেনা। সবাই জানত, হয়তো এটাই তার শেষ যাওয়া! তবুও বিদায় দেওয়ার জন্য কেউ অাসেনি! মা-বাবা, পাড়া প্রতিবেশী সবাই দূর থেকে এমনভাবে দেখছিল, যেন সে বড় অপরাধী, কাছে যাওয়া যাবেনা! অাপনার সন্তানের বেলায় এমন হলে অাপনার কি অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখেছেন?

করোনায় অাক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে। অথচ মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান কেউ পাশে নেই! ইচ্ছা থাকলেও যাওয়ার সুযোগ নেই। অামি নিশ্চিত, অাপনাকে যেতে দিলে অাপনিও যাবেননা সেসময়। হউক না অাক্রান্ত ব্যক্তি অাপনার যতই অাপন। আর এটাই বাস্তবতা।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারকতো সেটি, মৃত্যুর পরও যখন অাপনার পাশে কেউ অাসবেনা! শেষ গোসলটাও কপালে জুটবেনা! ম্রেফ অাপনি একা! ৪/৫ জন অপরিচিত লোক অাপনাকে ক্রেনে করে কবরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে অাসবে! ওটা অাসলে কবর না, গর্ত! একবার ঐসব হতভাগ্যদের জায়গায় নিজেকে ভাবুনতো? একবার ভাবুনতো, কার জন্য পৃথিবীতে এত কষ্ট করছেন? মানুন বা না মানুন, দিনশেষে এটাই সত্য যে, পৃথিবীতে অাপনি নিজে যতক্ষণ সুরক্ষিত, ততক্ষণ অাপনি সবার প্রিয়, অন্যরাও অাপনার। যখন করোনায় অাক্রান্ত হবেন তখন বুঝবেন বাস্তবতা অাসলে কতটা নিষ্ঠুর!

শেষ করব গতকালকের কোর্টবাজারের চিত্রটা জানিয়ে। সন্ধ্যাবেলায় চাল কিনতে গিয়েছিলাম। দেখে বুঝা-ই যায়নি, দেশে লকডাউন চলছে। পুলিশ থাকলেও তাদের চোখের সামনে দিয়ে চলছে প্রায় সবধরনের লোকাল গাড়িগুলো। পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছে লোকজন। কাউকে জিজ্ঞেসও করতে দেখলামনা! দোকানপাটও প্রায় খোলা! দলেদলে চলছে অাগের মত অাড্ডা! জনৈক ব্যক্তি বলল, পাশের খাবার হোটেলটি সারাদিন-ই খোলা থাকে। একটি ডিম আর এক প্লেট ভাতেই নাকি নিচ্ছে ৬০ টাকা! বলল, পুলিশকে ম্যানেজ করে নাকি ঐ হোটেলসহ প্রায় দোকান খোলা রাখছে! সিএনজি’র এক ড্রাইভার কিছু একটা ঈঙ্গিত করে বলল, “ভাই, অাতাঁত করে গাড়ি যেতে দিচ্ছে!” সেই অাতাঁতটা যে বিশেষ প্রয়োজনে বা মানবিক কারনে হয়, টাকায় নয়। যা-ই হউক, এরিমাঝে দেখলাম, থানার গাড়ি এসে দায়িত্বরত পু্লিশ সদস্যদের চলে যাচ্ছে। যেতেযেতে হ্যান্ড মাইকে সেই অাগের ঘোষনা, “অাপনারা অহেতুক ঘুরাফেরা না করে বাড়িতে চলে যান!”

অাসুন, সময় থাকতে সতর্ক হই। প্রকৃতি কিন্তু মানুষকে সময় দেবেনা, দেয়না। কারণ, ওটা প্রকৃতির নিয়মে পড়েনা। প্রকৃতির নিষ্ঠুতার সাথে মোকাবেলা করে পেরে উঠা যায়না। সতর্ক হয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাটাকেই বলে প্রকৃতির সাথে মোকাবেলা।

ধন্যবাদ সবাইকে।
মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

 

শেয়ার করুন::
error2
Tweet 20
fb-share-icon20


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::