বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১১:০২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
Wellcome to our website...

বেহেস্তী খাবার “মান্না-সালওয়া” এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও চক্রান্ত- ষড়যন্ত্রে বনী ইসরাঈল (ইহুদী) জাতি!

এম আর আয়াজ রবি।।
আপডেট : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

হজরত ইসহাক (আ.)-এর পুত্র হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধররা বনি ইসরাইল নামে পরিচিত। বনি ইসরাইল হচ্ছে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধরদের একটি শাখা। এ শাখারই একটি অংশ পরবর্তীকালে নিজেদের ইহুদি নামে পরিচয় দিতে থাকে। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর এক পুত্রের নাম ছিল ইয়াহুদা। সেই নামের অংশবিশেষ থেকে ‘ইহুদি’ নামকরণ করা হয়েছিল। (তাফসিরে মাওয়ারদি : ১/১৩১)।

হজরত মুসা (আ.)-এর বনি ইসরাইল জাতি ছিল অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির ও এক রোখা স্বভাবের। তারা মহান আল্লাহ তায়ালার কথা তেমন মান্য করত না। একদা আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.)-কে ‘আমালেকা সম্প্রদায়’ এর সঙ্গে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে হযরত মুসা (আঃ) বনি ইসরাইলের ১২ গোত্রের ১২ জন নেতাকে নির্বাচিত করে ঐ আমালেকা সম্প্রদায়ের রণাঙ্গনের অবস্থা দেখার জন্য প্রেরণ করেন। বায়তুল মাকদাসের অদূরে শহরের বাইরে আমালেকা সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের দেখা হয়।ঐ ব্যক্তি একাই বনি ইসরাইলের ঐ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বাদশাহর কাছে নিয়ে গিয়ে বলেন, এরা গুপ্তচর বৃত্তি করতে এসেছে যাতে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয় লাভ করতে পারে। রাজদরবারে নানা আলাপ সালাপ ও পরামর্শের পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যাতে তারা স্বজাতির কাছে (বনি ইসরাইলে গিয়ে হযরত মুসা (আঃ) গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আমালেকা জাতির শৌর্য-বীর্যের কথা বর্ণনা করতে পারেন, যাতে উরা ওরা আক্রমণ করা তো দূরের কথা, এদের দিকে মুখ করার দুঃসাহসও না দেখায়!

বনি ইসরাইলের ১২ জন সর্দার আমালেকা গোত্রের কয়েদখানা থেকে মুক্ত হয়ে ইউশা বিন নুন ও কালিব বিন ইউকান্না ছাড়া অন্যরা সবাই স্বজাতির কাছে সব বলে দেয়, অথচ তাদের সব কথা মুসা (আ.)-এর কাছে বলতে বলেছিলেন। তারা মুসা (আ.)-কে গিয়ে বলল, ‘আপনি ও আপনার পালনকর্তা যান ও উভয়ে যুদ্ধ করুন। আমরা এখানে বসলাম।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২৪)। আল্লাহ তাআলা তাদের এ উক্তির ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে ময়দানে ‘তিহ’ (সিনাই উপত্যকায়) যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই স্থানটি ছিল উদ্ভিদ, বৃক্ষলতা ও পানিবিহীন এক শুষ্ক মরুভূমি। তারা ‘তিহ’ ময়দানে একত্রিত হয়ে আবেদন করে। হে মুসা! সেখানে আমাদের আহারের ব্যবস্থা কিভাবে হবে? তখন আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য মান্না ও সালওয়া নামের আসমানি খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের জন্য মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৫৭)

##‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ কী?
মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর সাহাবীদের খাদ্যের অভাব দূর করার জন্য আসমান থেকে অলৌকিকভাবে মেঘের ছায়া, পানির ঝর্ণাধারা এবং মান্না ও সালওয়া অবতারন করেছিলেন। এ বেহেস্তী খাবার প্রায় ৪০ বছর যাবত বনি ইসরাইল জাতিকে মহান আল্লাহ তায়ালা খাইয়েছিলেন।

‘মান্না’ হলো এমন খাদ্য, যা রাতে কুয়াশার মতো পড়ে জমে যেত ও সুস্বাদু খাদ্যে পরিণত হতো। কারো কারো মতে, মান্না হলো ডুমুর। কারো কারো মতে, আঠালো সুমিষ্ট বস্তু। কারো মতে মধু, কারো মতে সুমিষ্ট পানীয়। কারো মতে, পাতলা রুটি। ব্যাঙের ছাতার মত যাহাকে আজকের যূগে আমরা মাশরুম বলে জানি।
‘মান্না’ ব্যাঙের ছাতার অন্তর্গত এবং এর পানি চোখের রোগের ঔষধ।’ মুসলিমঃ ৩:১৬১৯; তিরমিযীঃ ৬:২৩৫; নাসাঈঃ ৪:৩৭০; ইবনু মাযাহঃ ২:১১৪৩;
হাসান বসরী (রহিঃ) ও কাতাদাহ (রহিঃ) বলেছেনঃ
শিলার মত ‘মান্না’ তাদের ঘরে নেমে আসতো যাহা ছিল দূধের মত সাদা ও মধূর চেয়েও বেশী মিষ্টি ছিল। সুবহে সাদিক থেকে সূর্য উঠা পর্যন্ত অবতারিত হতে থাকতো। যার যার দরকার মত ঐ গুলো ঐ দিনের জন্য নিয়ে রাখতো। কেউ বেশী নিলে তা পচে যেত। শুক্রবারে তারা শুক্র ও শনিবার দুই দিনের যোগাড় করতো- যেহেতু শনিবার ছিল তাদের জন্য সাপ্তাহিক খুশীর দিন। সেদিন তারা জীবিকা অন্বেষন করতো না।

‘সালওয়া’ ছিল এক ধরনের বেহেস্তী পাখি, যা সূর্যাস্তের পর ঝাঁকে ঝাঁকে এসে ধরা দিত। তারা এদের গোশত ভক্ষণ করত।
‘সালওয়া’ এক ধরনের পাখী যাহা চড়ুই পাখী থেকে একটু বড় এবং রং অনেকটা লাল।
আজকের যূগে আমরা কোয়েল পাখী বলে থাকি।
বনি ইসরাঈলীরা ঐ সব পাখী ধরতো এবং জবেহ করে খেতো। একদিন খেলে তা বেশী হলে পচে যেত। শুক্রবারে তারা দুই দিনের জন্য জমা করে রাখতো। যেহেতূ শনিবার ছিল তাদের জন্য খুশীর দিন। সেই দিন তারা ইবাদতে মশগুল থাকতো এবং ঐ দিন শিকার করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। ***ইবনু আবি হাতিমঃ ১:১৭৯।

তীহ প্রান্তরে ৪০ বছরের বন্দী জীবন কাটানোর পর নবী ইউসা বিন নূন (আঃ)-এর নেতৃত্বে জিহাদের মাধ্যমে তারা বিজয় লাভ করে এই নগরীতে প্রবেশ করে ৪০ বছরের বন্দীত্বের অবসান ঘটেছিল। উল্লেখ্য যে, ৪০ বছরের বন্দী জীবনের দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মূসা ও হারুন (আঃ)-এর মৃত্যূ হয়েছিল। যার দরুন নবী ইউসা বিন নূন (আঃ)-এর নেতৃত্বে জিহাদের মাধ্যমে তারা বিজয় লাভ করেছিল।

নবী মূসা (আঃ)-এর আদেশের অবাধ্যতার কারনেই তাদেরকে ৪০ বছরের বন্দী জীবন কাটাতে হয়েছিল। অথচ যদি তারা আগেই জিহাদ করতো তাহলে ৪০ বছর বন্দী জীবন কাটাতে হতো না। পরিশেষে তাদেরকেই জিহাদ করতে হল যা শুরুতে করেনি তাদের ভীরুতা ও কাপূরুষতার জন্য। ভীরু ও কাপুরুষ জাতি কখনোই সন্মান লাভ করে না।
মহান আল্লাহর মুজিযা সরাসরি দেখার পরও এবং জান্নাতী খাদ্য ভোগ করেও তারা নবীর আদেশ লংঘন করেছিল।
আসলে যালিমরা কখনোই আনুগত্য স্বীকার করেনা। মূলতঃ মূসা (আঃ)-এর সাহাবীরা ঐ সময় অন্তর থেকে আনুগত্য স্বীকার করেনি। তারা খাদ্য, পানীয় ও নিদারুন কষ্ট দূর করার জন্য ফন্দি করেছিল। যার দরুন মহান আল্লাহ তাদের উপর গযব নাযিল করেছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ
“অতঃপর জালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে। তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে। ” ***সূরা বাকারাহঃ আয়াতঃ ২:৫৯।

## কেন বেহেস্তী খাবার আসা বন্ধ হয়?
উল্লেখ্য যে, মূসা (আঃ)-এর বেশীরভাগ সাহাবী সেই খাবার পছন্দ করেছিল না। তারা চেয়েছিল মসলাযূক্ত সাধারন খাবার। বনি ইসরাইলীরা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল এবং তারা ঈমান আনেনি আল্লাহর উপর এবং নিজেদের উপর যূলম করেছিল। তারা নিজেদের চোখে মুজিযা দেখার পরও বিশ্বাস করে নাই এবং ঈমান আনে নাই।
‘সালওয়া’ দিয়ে গোশতের অভাব পূরন হত। আর তারা আসমান থেকে মান্না একইভাবে পেত যার দরুন তাদের রুটির অভাব পূরন হত। অবাধ্য বনি ইসরাঈলীরা তীহ প্রান্তরের ৪০ বছরের বন্দী জীবনে ঐ পাখী এবং ‘মান্না’ বিপূল পরিমানে পেয়েছিল। পৃথিবীর বূকে জান্নাতী খাদ্য হিসাবে মান্না ও সালওয়া অন্য কোন জাতির ভাগ্যে জূটেছিল কি না জানা যায় না।

ইহুদিদের আসমানি খাদ্য জমা করে রাখতে নিষেধ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা জমা করে রাখত। আবার একসময় তারা মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাকার খাবার দেওয়ার জন্য দাবি জানায়। এতে তারা বিনা পরিশ্রমের আসমানি খাদ্য হারায় ও আল্লাহর শাস্তির উপযোগী হয়।মায়েদা বা খাঞ্চার অবতরণ ও মান্না-সালওয়ার অবতরণ আল্লাহ তাআলার মহান কুদরতের একটি বড় নিদর্শন।

সরাসরি বেহেস্তী খাবার গ্রহন করার সুযোগপ্রাপ্ত হওয়ার কারনে, বনি ইসরাইল (ইহুদী) জাতির শরীরে এখনও পর্যন্ত বেহেস্তি খাবারের রক্ত বংশ পরম্পরায় প্রবাহিত হওয়ার কারনেই তারা জ্ঞান, গরীমায়, বিদ্যা, বুদ্ধিতে, আবিস্কার ও চিকিৎসা বিজ্ঞান, উধ্বাকাশ বিজ্ঞান, মহাশুন্য বিজ্ঞান, সমুদ্র বিজ্ঞান ও পৃথিবীর সব ধরনের আবিস্কার এবং বিভিন্ন কীর্তিকলাপে সবার সেরা এখনও। সারা পৃথিবীতে ইহুদীদের সংখ্যা অতি নগন্য-প্রায় কোটির কাছাকাছি এই যা। কিন্তু বলতে গেলে সারা বিশ্বকে তাদের ইশারায় শাসন করে চলছে নিরন্তর। বিশ্বের পরাশক্তিধর রাষ্ট্রসমুহ এই ইহুদীবাদীদের অংগুলী হেলনে চলতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্বের নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে ইহুদী জাতি সব পরাশক্তিদের নের্তৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বে ইহুদীদের অনেক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান জাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। শিক্ষা-দীক্ষা, ব্যবসা-বানিজ্য, আবিষ্কার সবকিছুতে তাদের অবদান ঈর্ষনীয়। কার্ল মার্কস থেকে লেলিন এরকম আরো অনেকেই ছিলেন ইহুদি। ইহুদিরা ইউরোপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সুচতুর কৌশল অবলম্বন করছে বলে মনে করতেন হিটলার।তাছাড়া বিশ্বের বুকে জাতি হিসেবে ইহুদিদের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও অপকর্মের ইতিহাস সর্বজনবিদিত। কোরআনে কারিমে তাদের অভিশপ্ত ও লাঞ্ছিত জাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুদখোর ও ধনলিপ্সু জাতি হিসেবেও তাদের একটা পরিচয় রয়েছে। এ জাতি যুগ যুগ ধরে খোদাদ্রোহিতা, কুফরি ও তাদের খারাপ কর্মকাণ্ডের জন্য মানুষের কাছে অত্যন্ত ঘৃণাভরে পরিচিতি পেয়ে এসেছে। জন্মগতভাবেই এই জাতি খুবই চতুর ও ধুরন্ধর হওয়ায় বিভিন্ন ছলচাতুরী দিয়ে মানুষকে বশীভূত রাখার কৌশল অবলম্বন করে। এর মাধ্যমে তারা অন্যের ওপর দিয়ে যুগে যুগে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের ওপর আরোপ করা হলো লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এ জন্য যে তারা আল্লাহর বিধানের সঙ্গে কুফরি করত এবং নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করত। কারণ তারা ছিল নাফরমান ও সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬১।

এডলফ হিটলার ইহুদী জাতিকে একদম সহ্য করতে পারতেন না। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে জার্মানীর হারের অন্যতম কারন হিসেবে হিটলার ইহুদীদের ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন। হিটলার বিশ্বাস করতেন ১৯১৮ সালে জামার্নির রাজতন্ত্রের বিলোপ ইহুদিদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল। তিনি আরও লক্ষ্য করেন যুদ্ধশেষে জার্মানির ইহুদিরা অনেকেই ব্যবসা বানিজ্য দখল করে বসে আছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ইহুদিরা যুদ্ধে না গিয়ে এসব ধনসম্পদ গড়েছে। যখন জার্মানরা যুদ্ধে প্রাণ দিচ্ছিল সেই সুযোগে ইহুদিরা নিজেরা অর্থ গড়ে তুলছিল। যেমন লোহা,ধাতব বাজার,ব্যাংকার এসব পদে ইহুদি বেশী থাকায় এই অভিযোগ বেশ ভালভাবে নিয়েছিল জার্মানবাসী। সে সময় ইউরোপে ইহুদিরা সর্বদা ষড়যন্ত্র করে বলে দুর্নাম ছিল। ইহুদিরা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের লড়িয়ে নিজে লাভ করে বলে একটি কমন অভিযোগ ছিল। হিটলার মনে করতো ইহুদিরা জার্মানসহ সারা বিশ্বে নিয়ন্ত্রনের জন্য ভেতর ভেতর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই ইহুদিদের দমন করলেই বিশ্বজয় করা যাবে। জার্মানিতে সিফিলিস নামে যৌনরোগ ছড়িয়ে গেলে হিটলার সেটির জন্য ইহুদিদের দায়ী করছিল। এছাড়া অশ্লীল সাহিত্য প্রকাশকদের অধিকাংশ নাকি ইহুদি উপাধিযুক্ত সেটা নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো হত।

হিটলার বলেন-“আন্তর্জাতিক শান্তির বিরুদ্ধে ইহুদীদের ষড়যন্ত্রে যদি আরো একবার বিশ্বযুদ্ধ হয়, তাহলে এবার আর কোনো ষড়যন্ত্রে শাখা প্রশাখা বিস্তার করাতে পারবেনা, ইহুদীদের জয় হবে না, বরং তারা ধ্বংস হবে।” – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর মাসখানেক পূর্বে হিটলার। ১৯২২ সালের দিকে সাংবাদিক মেজর জুসেফ হেলকে হিটলার বলেছিলেন, ‘আমি যদি কোনো দিন সত্যি সত্যিই ক্ষমতায় যাই, তবে আমার প্রথম ও সব কিছুর আগের কাজ হবে ইহুদিদের শেষ করে দেয়া। হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর ও ত্রাণকর্তা হয়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তার এন্টি সেমিটিজম বা ইহুদি বিরোধী প্রচারণা। তাই হিটলার জার্মানীর চ্যান্সেলর হবার পরে প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদী নিধন করেছিল। মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ইহুদী নিধনের ইতিহাসও তিনি রচনা করে গেছেন।

ইতিহাসে একটি দুর্ধর্ষ জাতি ইহুদি। প্রাক ঐতিহাসিক যুগ হতে এরা বেশ বেপরোয়া ও হিংস্র প্রকৃতির। অত্যাচার, আক্রমণ, জিঘাংসা ও অন্য ধর্মের প্রতি ক্ষোভ আদিকাল হতেই এদের মনে লালন করে আসছে। বিশ্বের বুকে জাতি হিসেবে ইহুদিদের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও অপকর্মের ইতিহাস সর্বজনবিদিত। কোরআনে কারিমে তাদের অভিশপ্ত ও লাঞ্ছিত জাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জঘণ্য মনোবৃত্তি ওদের। চড়া সুদখোর ও ধনলিপ্সু জাতি হিসেবেও তাদের একটা পরিচয় রয়েছে। বর্বর এ জাতি যুগ যুগ ধরে খোদাদ্রোহিতা, কুফরি ও তাদের খারাপ কর্মকান্ডের জন্য মানুষের কাছে ঘৃণাভরে পরিচিতি পেয়ে এসেছে। তারা অন্যের ওপর দিয়ে যুগে যুগে তাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। তথাপি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, ব্যবসা-বানিজ্যে, শৌর্য-বির্যে এখনও ঠিকে থাকার পেছনে তাদের ঠান্ডা মাথার ষড়যন্ত্রকে অনেকে মনে করেন। কারন একমাত্র বনি ইসরাইলের ইহুদী জাতিই সরাসরি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে বেহেস্তী খাবার ‘মান্না’ ও ‘সালাওয়া’ গ্রহন করার ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ধন্যবাদ।

 

লেখক; এম আর আয়াজ রবি

(লেখক, কলামিস্ট ও ব্যবসায়ী)
তারিখঃ২২-মে-২০২০। Mail: ayaz.robi@gmail.com.

শেয়ার করুন::
error2
Tweet 20
fb-share-icon20


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::