বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
Wellcome to our website...

কক্সবাজার সৈকতে এক পা ওয়ালা লাল কাঁকড়ার বাড়ি

টুডে ডেস্ক প্রতিবেদন।।
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

মানুষের পদাচারণায় রাতদিন মুখরিত থাকা পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এখন নিস্তব্ধ। সেখানে আজ ডানা মেলেছে প্রকৃতি, ফিরছে প্রাণীরা।

জনমানবশূন্য সৈকতে নতুন করে বাড়ি করতে শুরু করেছে এক পা ওয়ালা লাল কাঁকড়া। দেখে মনে হয় শিল্পীর নিপুণ হাতে আঁকা আলপনা। বিলুপ্তপ্রায় এ কাঁকড়া এক সময় কক্সবাজার সৈকতের অন্যতম সৌন্দর্য বর্ধনকারী প্রাণী ছিল। এর বৈজ্ঞানিক নাম রেড ঘোস্ট ক্র্যাব।
লাল কাঁকড়া গাছের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে মাটির গুণাগুণের পরিবর্তন ঘটায়। মাটির ভৌত ও জৈব-রাসায়নিক গুণাগুণ ও বৈশিষ্টের পরিবর্তন ঘটিয়ে বিভিন্ন জীব-অনুজীব ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি করে। সৈকতের মাটির লবণাক্ততাও হ্রাস করে এসব এক পা ওয়ালা লাল কাঁকড়া।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় লেগে থাকতো সারাবছর প্রতিটি মুহূর্ত। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সেখানে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। এরপর থেকেই নিরব সৈকতে ফিরতে শুরু করেছে ডলফিন, আপন রঙ ফিরে পাচ্ছে সাগরের ঘোলা পানি, পাদদেশে উঁকি দিচ্ছে সাগরলতা, গড়ে উঠছে বালিয়াড়ি। এবার সেই দলে যোগ দিলো হারিয়ে যাওয়া লাল কাঁকড়া। সৈকতের এখানে ওখানে বাড়ি বানাচ্ছে এক পা ওয়ালা এসব প্রাণী। তাদের পায়ের আঘাতে নরম বালিতে তৈরি হয়েছে আলপনা। আর এভাবেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ফিরে পেয়েছে বৈচিত্র।
বসবাস ও বংশ বিস্তারের জন্য লাল কাঁকড়া সৈকতের মাটিতে যে গর্ত তৈরি করে, তা ইংরেজি আই, জে, এল, ইউ এবং অর্ধ ইউ আকারের হয়। সাধারণত এসব গর্তের গভীরতা হয় ৯ থেকে ১৭ ইঞ্চি পর্যন্ত। আর গর্তের সর্বনিম্ন অবস্থান থাকে পানির লেভেলের প্রায় ১/৩ ইঞ্চি (এক সেন্টিমিটার) উপরে। এ কারণে ভূপৃষ্ঠের উপর ও গর্তের নিচের তাপমাত্রায় নাটকীয় পার্থক্য তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হোসাইন জামাল ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি ১৯৮৩ সালে কক্সবাজার সৈকতের লাবনী পয়েন্টে গিয়েছিলাম। সেখানে তখন প্রচুর এক পা ওয়ালা লাল কাঁকড়া দেখেছিলাম। দিনদিন মানুষের পদাচারণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যায় এসব প্রাণী। পর্যটকশূন্য সৈকত আবার সে রূপ ফিরে পেয়েছে। ফিরে এসেছে বিলুপ্তপ্রায় এসব প্রাণীও।

স্থানীয় আসিফুল ইসলাম নূরী বলেন, আগে সৈকতে শুধু মানুষ দেখতাম। করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ায় ফিরে আসছে অনেক প্রাণী। শুক্রবার সৈকতের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখলাম শত শত লাল কাঁকড়া আমাকে দেখে গর্তে লুকিয়ে গেল। সাগরলতাও ব্যাপক হারে বেড়েছে। পুরোনো রূপ ফিরে পেয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

শেয়ার করুন::
error2
Tweet 20
fb-share-icon20


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::