বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১১:১৭ অপরাহ্ন

করোনা ঝুঁকিতেও টেকনাফ জেটি ও মেরিন ড্রাইভ সড়কে উপচেপড়া ভিড়

নুর হাকিম আনোয়ার, টেকনাফ।।
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয় উপক্ষো করে সব বয়সী নারী-পুরুষ ঈদের সময় ঘুরতে বেরিয়ে পরায় দর্শনীয় স্থান গুলোতে ব্যাপক ভিড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এসব স্থানে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত না করেই চলছে ঘুরাফেরা ও পৌর শহরের সড়কগুলোতে নামে মানুষের স্রোত। তাতে দেখা গেছে মানুষগুলো শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছে না।

উপজেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মাইকিং করলেও স্বাস্থ্যবিধি অনেকেই মানছেন না।

কক্সবাজার জেলা পুরোটাই যখন করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে, ঠিক ঈদুল ফিতরের সময়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে, ঘরে না থেকে ঘুরতে দলে দলে শিশু, কিশোর, যুবক, বয়স্ক মানুষ গুলো নাফ নদীর জেটি ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক,নাগরদোলায়, শাহপরীরদ্বীপের জেটি, মাথিনের কূপ, নাফ নদীর পাড়, নাইট্যংপাড়া ঝর্না, নেটং, ন্যাচারপার্ক এলাকায় ঘুরাঘুরি একেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি এমনকি ঠেলাঠেলিও করতে দেখা গেছে।। এসব উপচেপড়া ভিড় দেখে আতঙ্ক বিরাজ করছে সচেতন মহলে।

ঈদের দ্বিতীয়দিন টেকনাফ নাফ নদীর জেটি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষের সমাগম। একজন যেন আরেক জনের শরীরে পড়ছে, মুখে মাস্ক নেই। তবে করোনা সম্পর্কে অনেকের নেই ধারনা। শুধু তাই নয় ঐখানে গান বাজনা ও কেনভাস করে চলছে জুয়া খেলা ।

ইতিমধ্যে টেকনাফে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন লকডাউন করে জরুরী প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সব ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। তবে চায়ের স্টলে আড্ডা, রাজনৈতিক মিছিল সমাবেশ, ধর্মীয় সভা, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ গণজমায়েত ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উপজেলায় সাপ্তাহিক হাটের দিনের সময়ও ঘোষনা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগনকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ দিকে মানুষের ঘুরাঘুরির কারণে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। লোকজনকে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হলেও সে কথা মানছেন না অনেকেই। বিভিন্ন প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট থাকলেও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

করোনার সংক্রমণ রোধে এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে সরকারি- বেসরকারি অফিসগুলার সঙ্গে সঙ্গে দোকান-পাট ও বিপণিবিতানগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দফায় তা বাড়ানো হয়। তবে এরইমধ্যে করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ায় জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ২৬ মে পর্যন্ত উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো চকরিয়া উপজেলায় ১৪০ জন, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৩৮জন, পেকুয়া উপজেলায় ৩৯ জন, মহেশখালী উপজেলায় ২৮জন, উখিয়া উপজেলায় ৫৩ জন, টেকনাফ উপজেলায় ১৫জন, রামু উপজেলায় ৮জন, কুতুবদিয়া উপজেলায় ৩ জন এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী ২৯জন। কক্সবাজার জেলায় ইতিমধ্যে একজন মহিলা সহ মৃত্যুবরণ করেছেন ৬জন করোনা রোগী। মোট ৮৬জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

লেদা থেকে আসা মোঃ আমিন বলেন, আমরা একসাথে ১৫ জন জেটিতে ঘুরতে আসছি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা রোগীর পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাইকিং করছে শুনেছি। আমি একটু পড়ে চলে যাবো।

টেকনাফের যুবনেতা আলহাজ্ব নুরুল আমিন সিকদার জানান, দোকান-পাট ও মার্কেট খোলা হলে সেখানে মানুষ ভিড় করবে বলেই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম। যেহেতু আমরা সচেতন নই, তাই কোনো কিছু দিয়েই মানুষের স্রোত ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে আমাদের ঈদের ঘুরাঘুরি থেকে দূরে থাকাই উচিত। কেন না আগে জীবন তারপর খুশি-আনন্দ।

এ বিষয়ে টেকনাফ সদরের লম্বরী থেকে আসা ইসমত আরা নামে এক মহিলা বলেন, করোনার বিষয়ে জানি, তবে ঘুরা শেষ হলে চলে যাবো। করোনা তো আমাদের এখানে আসে নাই।

সরকার যখন গণজসমায়েত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানালেও কেন এখানে এসেছেন জানতে চাইলে যুবক জাবেদ ইকবাল বলেন, করোনা বিদেশ হয়। আমরার এখানে হবে না। আল্লাহ্ নিয়ে গেলে কিছু করার নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি বাজারে আমাদের ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করছে। এ বিষয়ে জনগনকে আরো সচেতন হতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::