শিরোনাম::
কক্সবাজার পৌরসভায় জমির বিরোধ নিয়ে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের অস্ত্র মহড়া ও গুলি বর্ষণ আহত ১৫ টেকনাফের বাহারছড়ায় দুগ্ধজাত শিশু রেখে মা উধাও বিজিবি অভিযান চালিয়ে লেদা সীমান্ত থেকে সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব সভাপতি’র কৃতজ্ঞতা সিইএইচআরডিএফ’র বিশ্ব শান্তি দিবস উদযাপন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবেন হেলাল সিকদার। হ্নীলায় জনগুরুত্বপূর্ণ ষ্টেশন-পুরান বাজার সড়ক দ্রুত সংস্কার দাবী। টেকনাফের রঙ্গিখালীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তৈয়বের দাফন সম্পন্ন ; ঘাতকদের দ্রুত গ্রেফতার দাবী মোবাইল চুরির অভিযোগে ‘অপু ভাই’য়ের সহযোগী গ্রেফতার যাচাই.কমে ৩৬ টাকা কেজিতে মিলবে পেঁয়াজ!
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৩ অপরাহ্ন

কাটাখালী রওজাতুন্নবী দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও টাকা আত্নসাতের অভিযোগ।

মুহিব উল্লাহ রায়হান।।
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী রওজাতুন্নবী (সাঃ) দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হারুনুর রসিদের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রভাব খাটিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে শিক্ষক শিক্ষার্থীর উপর হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালি নিকটস্থ রওজাতুন্নবী (সাঃ) দাখিল মাদ্রাসা ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং অত্র মাদ্রাসায় প্রায় ১২০শতক জমি দান করেন কাটাখালির মরহুম হাজী আবু সুফিয়ানের দ্বিতীয় পুত্র হাজী ইয়াকুব আলী। তিনি পূর্বে থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছে । পর্যায়ক্রমে বর্তমান মাদ্রাসাটি (এমপিওভুক্ত) দাখিল পর্যন্ত পৌঁছে।

রওজাতুন্নবী (সাঃ) দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সহ জমি দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা হাজী ইয়াকুব আলীর মাধ্যমে জানা যায়, অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া মরহুম মনিরুজ্জামান শিকদারের পুত্র হারুনুর রশীদ সিকদার ২০০৯ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। তিনি দীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্নীতি ও প্রতারণা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎই যেন তার মূল নেশা। তার নানা দুর্নীতির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ১১ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব অব্যাহত রাখে। গোপন সুত্রে জানা যায় সভাপতি হারুনুর রশিদ শিকদার একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এবং হুমকির মাধ্যমে জনগণের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।

দাতা সুত্রে জানা যায় তৎকালীন অত্র মাদ্রাসার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গঠিত নিয়োগ কমিটির রেজুলেশন কে জ্বাল জালিয়াত করে সকল দুর্নীতি ও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যে শিক্ষক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত থেকে শ্রম দিয়ে অল্প বেতনের পাঠদান করে আসছে, তাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে বহিষ্কার করে দেয়। এবং কালো টাকার বিনিময়ে নতুন শিক্ষকদের এমপি ভুক্ত নিয়োগ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

তিনি আরও বলেন কোন দিন দেখা মিলেনি এমন শিক্ষক কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান পূর্বের ৩ শিক্ষককে বাদ দেওয়া হয়েছে। এবং (১ম) সহকারী শিক্ষক কে ইবতেদায়ীতে (২য়) সহকারী শিক্ষক কে সহ-সুপার পদে পদোন্নতি করে।

রওজাতুন্নী (সাঃ)দাখিল মাদ্রাসার আয়ের উৎস সমুহ খতিয়ে দেখলে দেখা যায় (১) ভর্তির ফি বাবত আয় ২,০০,০০০ টাকা (২) মাসিক ফি বাবত আয় ৩,০০,০০০টাকা (৩)বিজ্ঞাপন ফি বাবত ২০,০০০ টাকা
(৪)রবি টাওয়ার ফি বাবত আয় ৪০,০০০ টাকা (৫)টিউশন ফি বাবত আয়:৪০,০০০টাকা
(৬)পরীক্ষা ফি (১ম,২য়ও বাষিক) বাবত আয় ২,৫০,০০০টাকা
(৭)রেজিস্ট্রেশন ফি (৫ম,৮মও৯ম) বাবত আয় ১,০০০০টাকা
(৮)ফরম ফি ৫ম,৮মও১০ম বাবত আয় ৭০,০০০টাকা
(৯)বাষিক সভার সর্বনিম্ন আয় ২১০,০০০ টাকা
(১০)এডমিট কাড ফি ( ৫ম,৮মও১০ম)বাবত আয় ৪৫,০০০টাকা.

প্রতি বছরের সর্বমোট আয় ১৬,৩০,০০০০ ( ষোল লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা) এছাড়া আরো বিভিন্ন খাত থেকে আয়ের উৎস আছে বলে জানায় সচেতন মহল। এত টাকা আয় হওয়ার সত্বেও ১০ জন শিক্ষক /শিক্ষিকার মাসিক ২২০০ টাকা বেতন দেওয়ায় অনীহা প্রকাশ করে বলে জানা যায়।

এবং ইতিমধ্যে এই মহামারীতে ও রেহাই পাইনি মাদ্রাসার আরেক অর্থ আত্মসাতের যাত্রী সহ-সুপার সিদ্দিক আহমদের হাত থেকে। তিনি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির অসহায় শিক্ষার্থীরা (টি.সি) নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের থেকে হাতিয়ে নেয় ১০০০ টাকা করে। এ সম্পর্কে মাদ্রাসার সহ-সুপার সিদ্দিক আহমদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি । পরে প্রধান সুপারের সাথে যোগাযোগ করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়।

সচেতন মহলরা জানিয়েছে উল্লেখিত সভাপতি ও সহ-সুপারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কিছু বলা হলে তাদেরকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করার হুমকি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে কমিটি থেকে অনেক সদস্যকে বহিস্কার করে দেওয়া হয়েছে। এবং তাদের শক্তি কে উর্বল করার জন্য বিভিন্ন অসাধু সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।শেষমেশ এই অনৈতিক কর্মকান্ডে রেজুলেশনে কোন স্বাক্ষর না করার কারনে বহিষ্কার করা হয়েছে জমি দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা হাজী ইয়াকুব আলীকে।

বহিস্কৃত শিক্ষক ও জমিদাতা বলেন এমন অনৈতিক অনিয়ম-দুর্নীতি অর্থ আত্মসাতের বাণিজ্য হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষেত্রে উন্নতি হবে বলে মনে হয় না।এবং এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার।ক্ষয়ে ক্ষয়ে শেষ হয়ে যাবে পড়ালেখার অগ্রগতির স্রোত। তাই মাদ্রাসা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা স্মরণ রেখে এই অনিয়ম দুর্নীতি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর::