যেমন দেখছি এখনো তেমন প্রিয় উস্তাদ

শেয়ার করুন-

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমার বয়স মাত্র ছয়কের মধ্যে হবে, বাড়ীর পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন ঘোনারপাড়া মাসজিদ ও ফোরকানিয়া হাতেখড়ি কয়েকমাস মক্তবে গিয়েছি।পরবর্তীতে মক্তবের হুজুর চলে যাওয়াতে থিমছড়ি স্থানান্তর হই, থিমছড়িতে দুই সিস্টেম এ মক্তব চালু ছিল ২০০৫ সনের আগ মুহুত্ব থেকে, যারা আমপারা পড়ত তাঁরদের স্থান ফোরকানিয়াতে তথা মাদ্রাসায় তখনকার ফোরকানিয়ার হুজুর ছিলেন জনাব আব্দুস সালাম(অনেক ভয় লাগত)। আর যারা কুরআন পড়ত তাঁদের স্থান মাসজিদে,পড়াতেন জনাব নাজের হোছাইন হুজুর।

প্রথমে মাসজিদের বারান্দার কার্পেট এ বসে পড়তে বসলাম, তখন পরিচয় নিল আমি কে? ভয়ে ভয়ে পরিচয় দিয়েছি, মজার বিষয় হল নামাজের জন্য টিকেট তুলত বড় ভাইয়েরা।যারা এক ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়তনা তাদের চরম শাস্তি প্রয়োগ হচ্ছে, তা দেখে চোখে জ্বল জ্বল ভাব ভাব আমার।বড় ভাই টিকেট তৈরী করে দিল,সব সময় টিকেট পকেটে রাখতাম। এক ওয়াক্ত নামাজ পড়লে বড় ভাইকে একটি দিতাম,এরকম পাঁচটি টিকেট ছিল সময়ে সময়ের অনুযায়ী। ইনশাল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত পড়া হতো।

যারা নামাজ পড়েনা, তাঁদের রয়েছে গজলের মাধ্যমে মাইর আর (বকা কল যা পায়ের পেছন থেকের হাত দিয়ে কান ধরে ঝুকে থাকা) এটাই চরম শাস্তি।সাপ্তাহিক একটি বিশেষ দিনছিল তা হল বৃহস্পতিবার, ঐদিন ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মের শাস্তি, দোয়া- দরুদ, নামাজ শিক্ষার গুরুত্ববহ আলোচনা।বৃহস্পতিবার অনেকেই অনুউপস্থিত থাকত কেননা: দোয়া- দরুদ, নামাজ শিক্ষা হাজিরা নিত তাই।যারা সঠিকভাবে হাজিরা দিতে ব্যর্থ তাঁদের ঐদিন কপালে দুঃখ ব্যতীত কিছুই থাকতনা। সত্যি বলতে কি আমি একদিন শিখিনি ঐদিন মাসজিদের পার্শ্ববর্তী বাঁশবনে যতক্ষণ ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি হয়নি ততক্ষণ লোকিয়ে থেকেছি, ছুটির শেষে সবার সাথে চলে আসতে ব্যস্ত। সকলে জানতে পারল আর অনেকেই বাড়িতে এসে বলে দিল, বাড়িতেও মাইর পরের সপ্তাহ শনিবারে নাজের হুজুর মস্ত মাইর।

আর যারা ঈদের ছুটির সময় মার্বেল খেলায় অভ্যস্ত তাদের মধ্যে অন্যতম আমিও,ঈদে সপ্তাহ খানিক বন্ধে আমরা মার্বেল খেলার এক এক জুটি নিয়ে খেলতাম পথে-ঘাটে, রাস্তার ধারে।আমার মার্বেল খেলার জুটি ছিল আজিজ মাওলা বর্তমানে দুই ছেলে- মেয়ের বেটা। ছুটি শেষে বিচার হইত মার্বেল খেলার, মাইর পিঠে না দিয়ে দুই হাত টেবিলে রাখত হাতের উপরে মাইর চলাত।

মাসজিদের পার্শ্ববর্তী একদিন গাছ ছিল ঐ গাছটির কথা ভুলে গেছি, গাছটির বেশি কদর ছিল,যা ছাত্র- ছাত্রীদের মিসওয়াক ব্যবহারের উপযোগী করে রাখছিলেন শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ। চ্যাকিং করত সকলে মিসওয়াক পকেটে রাখছে কিনা, যারা রাখেনি তাদের ওয়ার্নিং দিত।আমি যখন ৪র্থ শ্রেণীর শেষপ্রান্তে আল্লাহর রহমতে মক্তব শেষ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ, আমি মাদ্রাসার ছাত্র বিধায় নাজের হুজুরের বিষয় ছিল আরবি আর মিজান, মক্তবে যেমন মাইর ছিল মাদ্রাসায় সেই লেভের মাইর থাকত।

সবকিছু মুছে গেলেও মুছে যাবেনা মাসজিদের পার্শ্ববর্তী নদী খননের কথা, অনেকের অনেক অবদান থাকে হুজুরের নেতৃত্বে অবদানটি অতুলনীয়।এই নদীটি খনন না করা হলে থিমছড়ি জনগনে হারাত মাসজিদ, মাদ্রাসা আর বাজারটি কেননা নতুন খননের ফলে বন্যায় বিলীন হচ্ছেনা গ্রামসহ আরো অনেক কিছু।

আমি যাকে নিয়ে লিখছি শ্রদ্ধেয় জনাব নাজের হোছাইন হুজুর কে নিয়ে, আমার যখন একটু একটু বুদ্ধি হচ্ছে তখন যেরকম দেখছি এখনও একই রকম অপরিবর্তিত গঠন। অল্প সংখ্যক অভ্যাস পরিবর্তন হলেও অপরিবর্তিত রেখেছেন ঠিকঠাক নামাজ পড়া,আর নামাজের পরপরই কুরআন তিলাওয়াত করা( এক বৈঠক ৫-৬ পারা)।১৫-১৬ বছর আগে আমি যেরকম দেখছি, বর্তমানেও সেইম টু সেইম হুজুরের গঠন।

আর থিমছড়ি এলাকাল প্রায়শ হুজুরের ছাত্র-ছাত্রী এবং আমার বুদ্ধি হতে দেখছি হুজুর থিমছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মাসজিদের একাধারে খতিব ও পেশইমাম ছিলাম।২০১৯ সালের মধ্যকার পর্যন্ত ইমাম ছিলেন এর পরে হুজুর নাকি পদত্যাগ পত্র প্রদান করে কমিটির কাছে চলে গেলেন। স্মৃতিগুলো আমার মত অদম্য একজনের নয়,প্রায় ছাত্রের রয়েছে। অনুরোধ করব সকলকে শিক্ষকের মার্যাদা অনেক উপরে, প্রত্যেকে শিক্ষককে সম্মান করতে শেখুন আর সেহ্নের পাত্র হয়ে আজীবন শিক্ষকের কাছে অটুট থাকুন।

মুহিব উল্লাহ মুহিব
বাংলা বিভাগ
কক্সবাজার সরকারি কলেজ
কক্সবাজার।


শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *