ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলে আগুন দিয়ে লুটপাট

শেয়ার করুন-

ঠাকুরগাঁওয়ে নৈশ্যপ্রহরীকে আটকে রেখে বিদ্যালয়ে আগুন দিয়ে মালামাল লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ভোর রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বড়পলাশবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলে আগুন দিয়ে লুটপাট

এ সময়ে চারটি শ্রেণিকক্ষের টিন, চেয়ার বেঞ্চ ও আসবাবপত্র দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা। সেই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা ভেঙে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরসহ অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পুড়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও লুটপাট হওয়া জিনিসপত্রসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নগেন্দ্রনাথ পাল জানান, রাতে বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরীকে কক্ষের ভেতরে আটককে রেখে কে বা কারা দাহ্য পদার্থ দিয়ে টিনসেডের চারটি শ্রেণিকক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈশ্যপ্রহরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নৈশ্যপ্রহরী কৃষ্ণ চন্দ্র বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন লাগার কারণে দ্রুত কক্ষ, টিন ও চেয়ার ও বেঞ্চ জ্বলে গেছে।

এলাকাবাসীর কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার আব্দুস সোবহান ও সামশুল হুদার সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ১০ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার মীমাংসায় বসা হয়েছিল। বিষয়টির এখনও সমাধান হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের আগুনের ঘটনা প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। তাকে বিদ্যালয়ের ক্ষয়-ক্ষতি উল্লেখ করে থানায় ডায়েরি করতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বিদ্যালয়ের এড-হক কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী ফাহিম উদ্দীন আহমেদ জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল জানান, বিদ্যালয়ের কক্ষে আগুন দেওয়ার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। ঘটনার সাথে জড়িতদের বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষককে থানায় লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। বড়পলাশবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যেকোন সময় বিদ্যালয় খোলার নির্দেশনা আসলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে চরম সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।


শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *