গাবতলীর ‘রাজাবাবু’, দাম হাঁকছেন ২৫ লাখ

শেয়ার করুন-

নাম তার ‘রাজাবাবু’। কেউ কেউ আবার শখ করে ডাকে ‘মহারাজা’। তবে নাম যেটাই হোক, দেখতে কোনো অংশেই কম না ঝিনাইদহের সদর উপজেলা থেকে রাজধানীর গাবতলী হাটে নিয়ে আসা কালো রঙের এই গরুটি। দাঁড়িয়ে থাকলে এটির ‍উচ্চতার কারণে বাইরে থেকে যে কারো চোখে পড়বে, আর বসে থাকলে মনে হবে ছোটখাটো কোনো হাতির বাচ্চা।
গাবতলীর ‘রাজাবাবু’, দাম হাঁকছেন ২৫ লাখ

গরুর মালিক হোসাইন নিজেই রাজাবাবুকে বিক্রির জন্য গাবতলী হাটে নিয়ে এসেছেন। সঙ্গে এসেছে তার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলে এবং ভাতিজা মনির। শনিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে তারা রাজাবাবুকে হাটে নিয়ে এসেছেন। লোকজন গরুটি দেখতে ভিড় করছেন, দামাদামি চলছে। ঈদের আরও দুদিন বাকি থাকায় ভালো দাম পেলে বাবুরাজকে বিক্রি করবেন বলে জানান হোসাইন।

রাজাবাবুর ওজন প্রায় ২৯ মণ। হোসাইনের ভাতিজা মনির জানান, এক মাস আগে এটিকে ওজন দেওয়া হয়েছিল। তখন ১১৩৭ কেজি হয়েছিল। এই এক মাসে ওজন আরও বেড়েছে। এই গরুটির দাম শুরুতে ৩০ লাখ টাকা চাইলেও সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে যখন কথা হয় তখন ২৫ লাখ হলে এটিকে বিক্রি করে দেবেন বলে জানান কৃষক হোসাইন।
তবে তার ভাতিজা মনির আরও কিছুটা ছাড় দিতে রাজি। তিনি সময় নিউজকে বলেন, গত বছরও রাজাবাবুকে হাটে তোলা হয়েছিল। ঝিনাইদহ থেকে সোজা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বন্দরনগরীতে। কিন্তু সেখানে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এই এক বছরে খরচ বেশ বেড়েছে। তাই এবার আর ফিরিয়ে নিতে চান না। শেষ পর্যন্ত যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না পান তাহলে আরও কমেই দড়ি ছেড়ে দেবেন।
সবমিলে এই গরুটির পেছনে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানান মনির।
কৃষক হোসাইন জানান, বিশাল গরুটির বয়স চার বছর আট মাস। ছোট অবস্থায় তিনি পাশের গ্রাম থেকে এই গরুটি কিনে পালন শুরু করেন। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করেছেন বলে দাবি তার। এটির সঙ্গে হাটে আনা অপর ষাঁড়টিও একইভাবে পালন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুটি গরুকেই ঘাস, গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, ভুট্টা, খেসারি কলাই, তৈলবীজের খৈল, ছোলা ও খুদের ভাত খাওয়ানো হয়। মোটাতাজা করার ভ্যাকসিন বা হরমোন জাতীয় কিছু দেওয়া হয়নি। এমনকি এই দুই গরুর জন্যই তিনি নিজের ক্ষেতে ঘাস, গম এবং কলাইয়ের চাষ করেন এবং সেগুলোই খাওয়ান বলে জানান।
কৃষক হোসাইন সময় নিউজকে বলেন, ‘আমার গরুটি দেখতে ক্রেতারা সবাই ভিড় করছেন। কিন্তু যে দাম তারা বলছেন, সেই দামে আমার পক্ষে বিক্রি করা সম্ভব নয়। আমি শেষ দিন পর্যন্ত দেখব।’
হাট গরু দেখতে এসেছেন ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম। তিনি গতকাল রোববার প্রায় পুরো হাট ঘুরে গেছেন, কিন্তু সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে না মেলায় কেনা হয়নি কোরবানির পশু। আজ সোমবার সকালেও এসেছেন। তার দাবি, পুরো হাটে এই রাজাবাবুকেই তার ভালো মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটির চেয়েও অনেক বড় গরু আছে, কিন্তু এই গরুটির শরীরে চর্বি কম। দেখতেও বেশ সুন্দর। শরীর পেটানো।’
রাজাবাবু গাবতলী হাটের প্রবেশমুখে র‌্যাব এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাঝখানে থাকা সারিতে বাঁধা আছে। ওই সারির প্রবেশ মুখের তিন নম্বর ষাঁড়টিই কৃষক হোসাইনের ‘রাজাবাবু’। তার পাশেই আছে অপর ষাঁড়টি। যেটির ওজন প্রায় ১০ মণের মতো বলে জানান তিনি। ওই ষাড়টির দাম চাইছেন সাড়ে ছয় লাখ টাকা।
ঈদের আর মাত্র বাকি দুদিন। দুদিন আগে রাজধানীর গরুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। গরুর হাটে ক্রেতার আনাগোনা বেড়েছে। কেউ কেউ গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন। তবে মাঠে থাকা গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রি হবে।


শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *