দলকে বাঁচাতে কী ভেবেছিলেন সাকিব?

শেয়ার করুন-

সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও ছিল না কোনো তাড়া। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং করেই ম্যাচ জিতেছেন সাকিব আল হাসান। নিষিদ্ধ হওয়ার পর এই প্রথম কোনো সিরিজে ব্যাটে বলে সমুজ্জ্বল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
দলকে বাঁচাতে কী ভেবেছিলেন সাকিব?

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার পর নিজেকে হারিয়ে খোঁজায় ব্যস্ত বাংলাদেশের পোস্টার বয়, অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতন দেখে কী ভাবছিলেন তিনি? জয়ের চিন্তা কী ছিল?

দলের বাকি সদস্যরা যখন আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত, সাকিব ছিলেন তখন শান্ত। হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে দল যখন খাদের কিনারায়, তখন ক্রিজে আসেন সাইফউদ্দিন। তাকে নিয়েই ঠাণ্ডা মাথায় এগিয়ে যান সাকিব। শেষ পর্যন্ত সাকিব ৯৬ রানে এবং সাইফউদ্দিন ২৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচ শেষে এ নিয়ে কথা বলেছেন সাকিব। তিনি বলেন, মাইন্ডসেটটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন খেলার পর এখন যে অবস্থায় আছি, খুব বেশি টেকনিক্যাল সমস্যা হয় না। মানসিক সমস্যাই বেশি হয়। মানসিক গেম যদি নিজের সঙ্গে নিজে জিততে পারি তাহলে আমার জন্য নিয়মিত রান করা সম্ভব।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, আমার মনে হয় এত দিন আমি অনেক বেশি চিন্তা করছিলাম, যা এই ম্যাচের আগে পরিবর্তন করেছি। কিছু জিনিস এই ম্যাচের আগে আমাকে মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। চেষ্টা করব এই মনোযোগ যেন ধরে রাখতে পারি।
সাকিব বলেন, সবসময় টার্গেট ছিল ম্যাচ ক্লোজ করা। খেলা যতটা ক্লোজ করতে পারি, তারপর জয়ের ব্যাপারে দেখব। ব্যাটিংয়ের সময় চিন্তা ছিল অন্তত ৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাটসম্যান তকমাধারীদের উইকেটে টিকে থাকতে হবে। তারপরের কাজটা হয়তো বোলাররাও পারবেন।

তিনি বলেন, ব্যাটিংয়ের সময় একটা কথাই বলছিলাম- আমরা ব্যাটসম্যানরা ৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করলে দেখতে পারব কোথায় আছি। এরপর ১৫-২০ বা ৩০ রান ২-৩ ওভারেও করা সম্ভব এখনকার ওয়ানডে ক্রিকেটে।
তিনি আরও বলেন, এ ম্যাচে উইকেটটা একটু ভিন্ন ছিল। বল ব্যাটে আসছিল না। তাই রান করার জন্য শট খেলতে হতো। সেই জায়গায় অনেক মানিয়ে নিতে হয়েছে ব্যাটসম্যান হিসেবে। যেভাবে দরকার ছিল মানিয়ে নিতে পেরেছি বলে খুশি। উইকেটে সময় নিয়েছি। নিয়মিত উইকেট পড়ায় তেমন কিছু করতেও পারতাম না।
শেষ কৃতিত্বটা সাইফউদ্দিনকে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি বাংলাদেশের পোস্টারবয়। তিনি বলেন, সাইফউদ্দিন যেভাবে খেলাটা শেষ করতে পেরেছে, তাতে তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।
রোববার (১৮ জুলাই) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাকিবের ব্যাটে ভর করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।
২৪১ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৮ ওভারে ৭৫ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন প্রথম সারির চার ব্যাটসম্যান। তামিম ইকবাল (২০), লিটন দাস (২১), মোহাম্মদ মিঠুন (২) ও মোসাদ্দেক হোসেন (৫) কেউই তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।
মাহমুদউল্লাহর ৩৫ বলে ২৬ রান তুলে মুজারাবানির শিকার হন। মিরাজ ৬ রান তুলে মাধেভেরের শিকার হন। আফিফকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলেন বাংলাদেশের দর্শকরা। কিন্তু সেও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ১৫ রান তুলেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে লাইন মিস করেন আফিফ, হয়েছেন স্টাম্পড।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় জিম্বাবুয়ে। শুরুতেই তাসকিন-মিরাজের জোড়া আঘাতে বিধ্বস্ত হয় জিম্বাবুয়ে। তবে শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে স্বাগতিকরা। শেষমেশ শরীফুলের ৪ উইকেটে জিম্বাবুয়ের মাঝারি স্কোর দাঁড়ায়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২৪০ রান।
এতে এক যুগ পর বাংলাদেশ জিরিজ জিতল জিম্বাবুয়ের মাটিতে। সাকিব প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নিলেও লিটনের পারফরমেন্সের জন্য পাননি ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তবে এবার ঠিকই তা নিজের করে নিলেন। এখন সাকিব সিরিজ সেরার অপেক্ষায়।


শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *